ইসরাইলের টানা দুই বছরের আগ্রাসনে গাজা এখন পরিণত হয়েছে এক বিরাট ধ্বংসস্তূপে। জাতিসংঘের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পুরো উপত্যকায় জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১ মিলিয়ন টনেরও বেশি—যা নিউইয়র্কের বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ওজনের প্রায় ১৭০ গুণ।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ সংস্থা ইউনোস্যাট জানিয়েছে, গাজার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভবনই এখন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে।
গাজা সিটিতে ধ্বংসের মাত্রা সবচেয়ে ভয়াবহ। ২২ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরের স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, শহরের ৮৩ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজা উপত্যকায় প্রায় এক লাখ ৯৩ হাজার ভবন ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা যুদ্ধ শুরুর আগের মোট স্থাপনার প্রায় ৭৮ শতাংশ।
এই বিপুল ধ্বংসে গাজার প্রতি বর্গমিটারে গড়ে ১৬৯ কেজিরও বেশি ধ্বংসাবশেষ জমেছে। সব মিলিয়ে উপত্যকাজুড়ে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ ৬১.৫ মিলিয়ন টন।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম পাঁচ মাসেই গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংসাবশেষ সৃষ্টি হয়েছিল। সংঘাত যত দীর্ঘ হয়েছে, ধ্বংসের গতি তত বেড়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে আরও আট মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়, যার বেশির ভাগ রাফাহ ও খান ইউনুসের দক্ষিণাঞ্চলে।
ইউএনইপির আগস্টে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়, এসব ধ্বংসাবশেষ স্থানীয় জনগণের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। সংস্থাটির অনুমান, অন্তত ৪.৯ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ পুরোনো ভবনের অ্যাসবেস্টস দ্বারা দূষিত হতে পারে। বিশেষ করে উত্তর গাজার জাবালিয়া, মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত ও আল-মাঘাজি এবং দক্ষিণের রাফাহ ও খান ইউনুস শরণার্থী শিবিরের আশপাশে এই ঝুঁকি বেশি।
এ ছাড়া অন্তত ২.৯ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষে শিল্প কারখানার বিপজ্জনক রাসায়নিক বর্জ্য মিশে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউএনইপি। এসব বিষাক্ত উপাদান বাতাস ও পানিতে ছড়িয়ে পড়লে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।
দুই বছরের এই যুদ্ধে গাজার ভূচিত্রই বদলে গেছে। ভবনের পাশাপাশি সড়ক, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই বিপুল ধ্বংসস্তূপ সরাতে ও পুনর্গঠনে বহু বছর লেগে যাবে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













