Hi

০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডুমুরিয়ায় হিন্দু সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে ‘ইসলামী সরকার’-এর আহ্বান

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬১ জন দেখেছে

খুলনার ডুমুরিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নভেম্বরে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে যেসব সরকার দেশ পরিচালনা করেছে, তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে কেবল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এবার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাগ্যোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ইসলামী সরকারের প্রয়োজন।”

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু কমিটির আয়োজিত হিন্দু সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “যারা দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে হিন্দুদের ভয় দেখাচ্ছে, তাদের হুমকিতে কেউ ভয় পাবে না। হিন্দুদের বাধা দেওয়া হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এখন হিন্দুদের স্লোগান— সব মার্কা দেখা শেষ, দাঁড়িপাল্লার বাংলাদেশ।”

তিনি দাবি করেন, ডুমুরিয়া-ফুলতলাসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে “ইসলামী সরকারই সময়ের দাবি।”
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “লাঙল, ধানের শীষ, নৌকার শাসন দেশ দেখেছে— এখন সময় দাঁড়িপাল্লার।”

২০২৪ সালের আন্দোলনে দেড় হাজার শহীদ ও ৪০ হাজার আহতের কথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে; আগামীতেও জনগণ সেই বার্তা দেবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী।
সভায় বক্তৃতা দেন— খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ও অতিরিক্ত জিপি আবুল খায়ের, শোভনা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, পূজা মন্দিরের সাধু প্রমথ গাইন, ডা. হরিদাস মন্ডল, কানাই লাল কর্মকার, প্রশান্ত কুমার মন্ডল, অধ্যক্ষ সুভাষ সরদার, সুজিৎ কুমার সরকার, গৌতম কুমার মন্ডল, অনিমেষ মন্ডলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হিন্দু কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “নতুন প্রজন্মের প্রথম ভোট দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক।”
অন্যদিকে মতুয়া সংঘের সভাপতি ডা. সুদীপ্ত কুমার সুন্দর মন্ডল বলেন, “আমরা আর সংখ্যালঘু পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশি। স্বাধীনতার পর কোনও সরকার হিন্দুদের দাবিতে কাজ করেনি। এবার প্রমাণ হবে, হিন্দু মানেই একটি নির্দিষ্ট দল নয়।”

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে মানুষ আসেন। বাদ্যযন্ত্রসহ নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতীরা এতে অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে এক বিশাল গণমিছিল ডুমুরিয়া সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

ডুমুরিয়ায় হিন্দু সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে ‘ইসলামী সরকার’-এর আহ্বান

আপডেট সময় : ০৬:৪২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

খুলনার ডুমুরিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নভেম্বরে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে যেসব সরকার দেশ পরিচালনা করেছে, তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে কেবল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এবার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাগ্যোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ইসলামী সরকারের প্রয়োজন।”

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু কমিটির আয়োজিত হিন্দু সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “যারা দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে হিন্দুদের ভয় দেখাচ্ছে, তাদের হুমকিতে কেউ ভয় পাবে না। হিন্দুদের বাধা দেওয়া হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এখন হিন্দুদের স্লোগান— সব মার্কা দেখা শেষ, দাঁড়িপাল্লার বাংলাদেশ।”

তিনি দাবি করেন, ডুমুরিয়া-ফুলতলাসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে “ইসলামী সরকারই সময়ের দাবি।”
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “লাঙল, ধানের শীষ, নৌকার শাসন দেশ দেখেছে— এখন সময় দাঁড়িপাল্লার।”

২০২৪ সালের আন্দোলনে দেড় হাজার শহীদ ও ৪০ হাজার আহতের কথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে; আগামীতেও জনগণ সেই বার্তা দেবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী।
সভায় বক্তৃতা দেন— খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ও অতিরিক্ত জিপি আবুল খায়ের, শোভনা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, পূজা মন্দিরের সাধু প্রমথ গাইন, ডা. হরিদাস মন্ডল, কানাই লাল কর্মকার, প্রশান্ত কুমার মন্ডল, অধ্যক্ষ সুভাষ সরদার, সুজিৎ কুমার সরকার, গৌতম কুমার মন্ডল, অনিমেষ মন্ডলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হিন্দু কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “নতুন প্রজন্মের প্রথম ভোট দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক।”
অন্যদিকে মতুয়া সংঘের সভাপতি ডা. সুদীপ্ত কুমার সুন্দর মন্ডল বলেন, “আমরা আর সংখ্যালঘু পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশি। স্বাধীনতার পর কোনও সরকার হিন্দুদের দাবিতে কাজ করেনি। এবার প্রমাণ হবে, হিন্দু মানেই একটি নির্দিষ্ট দল নয়।”

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে মানুষ আসেন। বাদ্যযন্ত্রসহ নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতীরা এতে অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে এক বিশাল গণমিছিল ডুমুরিয়া সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী।