Hi

১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌসুমি অসুখে আক্রান্ত শিশু, চিকিৎসায় সতর্কতার পরামর্শ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭২ জন দেখেছে

ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের ভাইরাসজনিত রোগ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা। এ সময় শিশুদের মাঝে ডেঙ্গুসহ নানা রকম ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ লক্ষ করা যাচ্ছে। যেমন-মৌসুমি জ্বর, চিকুনগুনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, টাইফয়েড, করোনা ভাইরাস ইত্যাদি।

 

* সর্দি-কাশি

ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি একটি সাধারণ সমস্যা যা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে।

 

* মৌসুমি জ্বর

মৌসুমি জ্বর সাধারণত চার থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় । প্রথম তিন দিন জ্বরের মাত্রা ১০২-১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত থাকে। জ্বরের সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, বমি, কাশি, মাংসপেশিতে ব্যথা, খাবারে অরুচি এবং শরীরে ক্লান্তি ভাব থাকতে পারে।

 

* চিকিৎসা

জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দিতে হবে। এ ছাড়া জ্বরের মাত্রা বেশি হলে নরম তোয়ালে কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে পুরো শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে। যেসব শিশুর জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হয় তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খিঁচুনির ওষুধ দিতে হবে। এ সময় শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাসায় তৈরি পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। এ ছাড়া প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন-ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন, ফলের রস দিতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করাতে হবে। মনে রাখতে হবে, মৌসুমি জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদ্যসদের মাঝে সংক্রমিত হতে পারে।

 

* পরামর্শ

ভাইরাসজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য কিছু পরামর্শ-

▶ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা : শিশুদের হাত ভালোভাবে ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে রাখার অভ্যাস করতে হবে।

▶ ভিড় এড়িয়ে চলা : বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে শিশুদের দূরে রাখা উচিত।

▶ পর্যাপ্ত বিশ্রাম : শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম দেওয়া এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করা উচিত।

 

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, শিশু পরিপাকতন্ত্র ও পুষ্টি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌসুমি অসুখে আক্রান্ত শিশু, চিকিৎসায় সতর্কতার পরামর্শ

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের ভাইরাসজনিত রোগ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা। এ সময় শিশুদের মাঝে ডেঙ্গুসহ নানা রকম ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ লক্ষ করা যাচ্ছে। যেমন-মৌসুমি জ্বর, চিকুনগুনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, টাইফয়েড, করোনা ভাইরাস ইত্যাদি।

 

* সর্দি-কাশি

ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি একটি সাধারণ সমস্যা যা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে।

 

* মৌসুমি জ্বর

মৌসুমি জ্বর সাধারণত চার থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় । প্রথম তিন দিন জ্বরের মাত্রা ১০২-১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত থাকে। জ্বরের সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, বমি, কাশি, মাংসপেশিতে ব্যথা, খাবারে অরুচি এবং শরীরে ক্লান্তি ভাব থাকতে পারে।

 

* চিকিৎসা

জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দিতে হবে। এ ছাড়া জ্বরের মাত্রা বেশি হলে নরম তোয়ালে কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে পুরো শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে। যেসব শিশুর জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হয় তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খিঁচুনির ওষুধ দিতে হবে। এ সময় শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাসায় তৈরি পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। এ ছাড়া প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন-ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন, ফলের রস দিতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করাতে হবে। মনে রাখতে হবে, মৌসুমি জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদ্যসদের মাঝে সংক্রমিত হতে পারে।

 

* পরামর্শ

ভাইরাসজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য কিছু পরামর্শ-

▶ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা : শিশুদের হাত ভালোভাবে ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে রাখার অভ্যাস করতে হবে।

▶ ভিড় এড়িয়ে চলা : বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে শিশুদের দূরে রাখা উচিত।

▶ পর্যাপ্ত বিশ্রাম : শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম দেওয়া এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করা উচিত।

 

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, শিশু পরিপাকতন্ত্র ও পুষ্টি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি।