নিম্নচাপজনিত টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে, আর সেই সুযোগে দুই দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে গেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, সেখানে এখন একই পেঁয়াজের দাম উঠে গেছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানীগুলোতে পেঁয়াজের বস্তা কমে গেছে, এবং বিক্রেতারা আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ—সরবরাহ সংকট দেখিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মিঠু হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই দিন আগেই তো ৬৫ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছি। আজ আবার এসে দেখি ৮০ থেকে ৯০ টাকা চাইছে। দুই দিনের বৃষ্টিতেই যদি এমন দাম বাড়ে, তাহলে সামনে আরও কী হবে কে জানে! আমাদের মতো দিনমজুর মানুষের মৌলিক রান্নার উপাদানও আর নাগালের মধ্যে থাকছে না।”
আরেক ক্রেতা ইয়াসিন আলী জানান, “গত হাটে ৬০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। এখন দেখি কেজি ২৫ টাকা বাড়তি। দুইদিনের বিরতিতে এমন দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা কেউ ভাবে না।”
বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম বাড়ানোর পেছনে কারণ রয়েছে। হিলির পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবুল হাসনাত জানান, “দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ এতদিন ঠিকঠাক থাকলেও বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলতে পারেননি কৃষকেরা। মোকামেই পেঁয়াজের ট্রাক কম আসছে। যারা আমদানি করেন, তাঁরাও বলছেন—সরবরাহ না থাকলে চাহিদা বাড়ে, আর চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে। তাছাড়া আশপাশের জেলার পাইকাররা পাবনা থেকে পেঁয়াজ তুলতে গেলেও আগের মতো মাল পাচ্ছেন না। ফলে বাজারে প্রবাহ কমে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “এটা চিরস্থায়ী অবস্থা নয়। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবার সরবরাহ বাড়বে, তখন দামও কমে আসবে। কিন্তু বর্তমানে যেটা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ সংকট ও আবহাওয়াজনিত প্রভাব।”
হিলির বাজারে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়েরই এখন একটাই প্রত্যাশা—বৃষ্টি থেমে কৃষকেরা মাঠে ফিরুক, মোকামে পণ্য উঠুক, আর বাজার আবার স্বাভাবিক হোক। তবে সাধারণ মানুষের শঙ্কা, শুধু পেঁয়াজ নয়, অন্যান্য নিত্যপণ্যে একইভাবে দাম বাড়তে থাকলে দৈনন্দিন ব্যয় টিকিয়ে রাখা আরও দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে।
জেলা প্রতিনিধি,দিনাজপুর। 











