সাধারণত আমরা চুলকানিকে দৈনন্দিন একটি সমস্যা মনে করি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেছে, চুলকানি অনেক সময় আরও গভীর স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে। একজিমা, স্ক্যাবিস, অ্যালার্জি বা ছত্রাক সংক্রমণ হোক, হালকা অ্যালার্জি, সংক্রমণ বা পোকামাকড়ের কামড় হোক—প্রাথমিকভাবে চুলকানি ক্ষুদ্র সমস্যা মনে হলেও কখনও কখনও এটি জীবন-সংকট তৈরি করতে পারে।
চলুন জেনে নিই, কোন কোন ক্ষেত্রে চুলকানি মারাত্মক রোগের সতর্ক সংকেত হতে পারে—
১. লিভার সমস্যা
দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে চুলকানি সাধারণ। বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ও অ্যালকোহলিক লিভার রোগে চুলকানি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের চুলকানি প্রাথমিকভাবে হাতের তালুতে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
২. দাদ (Herpes zoster)
দাদের ক্ষেত্রে চুলকানি প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। ফোসকার মতো ফুসকুড়ি, ব্যথা ও ঝিনঝিন অনুভূতি থাকতে পারে। সাধারণত এটি শরীরের একপাশে, বিশেষ করে মুখ ও বগলে দেখা যায়।
৩. ক্যানসার
কিছু ক্যানসারের রোগীর ত্বকে চুলকানি দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে লিভার ক্যানসার, পিত্তথলির ক্যানসার, হেমাটোপয়েটিক সিস্টেমের ক্যানসার এবং ত্বকের ক্যানসার উল্লেখযোগ্য।
৪. ডায়াবেটিস
টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় ৩৬ শতাংশের ত্বকে চুলকানি দেখা যায়। এটি মূলত রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে হয় এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা মাথার ত্বকেও প্রভাব ফেলতে পারে।
৫. কিডনি সমস্যা
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকের চুলকানি। কিডনি কেয়ার ইউকের তথ্য অনুযায়ী, কিডনি রোগীদের প্রায় অর্ধেকের ত্বকে চুলকানি দেখা যায়, যা ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রেও সাধারণ।
৬. থাইরয়েড রোগ
থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রমে সমস্যা হলে ত্বক, চুল ও নখের ওপর প্রভাব পড়ে। তাই চুলকানি কখনও কখনও থাইরয়েড সমস্যা নির্দেশ করতে পারে।
৭. অটোইমিউন রোগ
অটোইমিউন রোগে ইমিউন সিস্টেম শরীরের নিজস্ব সুস্থ অংশগুলোকে আক্রমণ করে। এই ধরনের রোগ যেমন অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস, অটোইমিউন বুলাস, লুপাস, ডার্মাটাইটিস হারপেটিফর্মি ও সজোগ্রেন সিনড্রোম—এগুলো ত্বকের চুলকানির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রকাশ পেতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, যদিও চুলকানি প্রাথমিকভাবে সাধারণ সমস্যা মনে হতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত চুলকানি কখনও কখনও গুরুতর রোগের সতর্ক সংকেত হতে পারে। বিশেষত লিভার ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা অটোইমিউন রোগের ক্ষেত্রে ত্বকের চুলকানি উপেক্ষা করা উচিত নয়। সময়মতো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট 














