Hi

০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে নতুন করে বাড়ছে এইচআইভি—তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনক সংক্রমণ

এইডসের সচেতনতামূলক লোগো

রাজশাহীতে চলতি বছরে ১০ মাসের মধ্যে ২৮ জন নারী-পুরুষ এইচআইভি সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগ ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী, যা উঠে এসেছে স্থানীয় চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্রের তথ্য থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুব সমাজের মধ্যে এই সংক্রমণের বৃদ্ধি উদ্বেগজনক।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টার (এইচটিসি) প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে। যারা পজিটিভ হন, তাদের বিভিন্ন বিষয়ে কাউন্সেলিং করা হয় এবং নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সেন্টারে সরাসরি ওষুধের ব্যবস্থা নেই। রাজশাহী বিভাগের অন্য জেলায় আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) যেতে হয়।

রামেক হাসপাতালের আউটডোরে এইচটিসি সেন্টার চালু রয়েছে, যেখানে অল্প সময়ে রেজাল্ট দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে কার্যক্রম শুরু হয় এবং ছয় বছরে ১২,৪৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ জন পজিটিভ এবং ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সমকামিতার মাধ্যমে সংক্রমণের হার বেশি। ২০২৪ সালে ২৭ জন পজিটিভের মধ্যে ১৬ জনের সংক্রমণ সমকামিতার মাধ্যমে হয়েছে। এছাড়া ১০ জন যৌনকর্মী এবং একজন রক্ত থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। ২০২৫ সালে এই ধারা বজায় আছে, যেখানে ২৮ জনের মধ্যে ১৭ জন সমকামিতার মাধ্যমে সংক্রমিত।

একজন আক্রান্ত রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পজিটিভ হওয়ায় প্রথমে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আত্মহত্যা করি, আবার ভয় হচ্ছিল অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দিই। তবে এইচটিসি সেন্টারে কাউন্সেলিং পেয়ে এবং নিয়মিত চিকিৎসা নেয়ার পর এখন ভালো আছি।”

রামেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখানে শুধুমাত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। ওষুধ নেওয়ার জন্য রোগীদের বগুড়া যেতে হয়। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে এআরটি সেন্টার চালু করা হবে। এতে রাজশাহী ও আশপাশের জেলার রোগীরা সহজে বিনামূল্যে ওষুধ পেতে পারবেন।

ডা. ইবরাহীম মো. শরফ, রামেক হাসপাতালের এইচটিসি ফোকাল পার্সন, বলেছেন, “এইচআইভি সংক্রমণ ছড়ানোর প্রধান উপায় হচ্ছে অরক্ষিত যৌনমিলন। মা থেকে শিশুর মাধ্যমে সংক্রমণও হতে পারে। রোগ প্রতিরোধে কনডম ব্যবহার, সীমিত যৌন সঙ্গী, নিরাপদ রক্ত এবং একবার ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহার না করা গুরুত্বপূর্ণ।”

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত স্বাস্থ্য চেকআপ, সঠিক কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসা নিলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণযোগ্য। আক্রান্ত মা সন্তান জন্মদান এবং শিশুর বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে নতুন করে বাড়ছে এইচআইভি—তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনক সংক্রমণ

আপডেট সময় : ১২:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে চলতি বছরে ১০ মাসের মধ্যে ২৮ জন নারী-পুরুষ এইচআইভি সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগ ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী, যা উঠে এসেছে স্থানীয় চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্রের তথ্য থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুব সমাজের মধ্যে এই সংক্রমণের বৃদ্ধি উদ্বেগজনক।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টার (এইচটিসি) প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে। যারা পজিটিভ হন, তাদের বিভিন্ন বিষয়ে কাউন্সেলিং করা হয় এবং নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সেন্টারে সরাসরি ওষুধের ব্যবস্থা নেই। রাজশাহী বিভাগের অন্য জেলায় আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) যেতে হয়।

রামেক হাসপাতালের আউটডোরে এইচটিসি সেন্টার চালু রয়েছে, যেখানে অল্প সময়ে রেজাল্ট দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে কার্যক্রম শুরু হয় এবং ছয় বছরে ১২,৪৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ জন পজিটিভ এবং ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সমকামিতার মাধ্যমে সংক্রমণের হার বেশি। ২০২৪ সালে ২৭ জন পজিটিভের মধ্যে ১৬ জনের সংক্রমণ সমকামিতার মাধ্যমে হয়েছে। এছাড়া ১০ জন যৌনকর্মী এবং একজন রক্ত থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। ২০২৫ সালে এই ধারা বজায় আছে, যেখানে ২৮ জনের মধ্যে ১৭ জন সমকামিতার মাধ্যমে সংক্রমিত।

একজন আক্রান্ত রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পজিটিভ হওয়ায় প্রথমে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আত্মহত্যা করি, আবার ভয় হচ্ছিল অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দিই। তবে এইচটিসি সেন্টারে কাউন্সেলিং পেয়ে এবং নিয়মিত চিকিৎসা নেয়ার পর এখন ভালো আছি।”

রামেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখানে শুধুমাত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। ওষুধ নেওয়ার জন্য রোগীদের বগুড়া যেতে হয়। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে এআরটি সেন্টার চালু করা হবে। এতে রাজশাহী ও আশপাশের জেলার রোগীরা সহজে বিনামূল্যে ওষুধ পেতে পারবেন।

ডা. ইবরাহীম মো. শরফ, রামেক হাসপাতালের এইচটিসি ফোকাল পার্সন, বলেছেন, “এইচআইভি সংক্রমণ ছড়ানোর প্রধান উপায় হচ্ছে অরক্ষিত যৌনমিলন। মা থেকে শিশুর মাধ্যমে সংক্রমণও হতে পারে। রোগ প্রতিরোধে কনডম ব্যবহার, সীমিত যৌন সঙ্গী, নিরাপদ রক্ত এবং একবার ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহার না করা গুরুত্বপূর্ণ।”

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত স্বাস্থ্য চেকআপ, সঠিক কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসা নিলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণযোগ্য। আক্রান্ত মা সন্তান জন্মদান এবং শিশুর বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।