Hi

০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

রায় ঘোষণার পরপরই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল করেন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

রায় ঘোষণার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়ে হৈচৈ মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন শহীদ আবু সাঈদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা—সুমন ও রহমত আলী।

তারা বলেন,
“আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে পাঁচটি অপরাধে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, তার অন্যতম অভিযোগ ছিল বেরোবির শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা।
এ রায়ের মাধ্যমে সেই হত্যার নির্দেশদাতাদের বিচার হয়েছে—এজন্য শিক্ষার্থীরা স্বস্তি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনা ও কামালকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে।”

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন,
“জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বেরোবির শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার পরই আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ৫ আগস্ট আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকের রায় ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ পুরো দেশবাসী ন্যায়বিচার পেয়েছে। তবে রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে—এটি এখন শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি।”

তিনি আরও বলেন,
“এই রায়ের মধ্য দিয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”

রায় ঘোষণার পর রংপুর নগরীর বিভিন্ন স্থানেও শিক্ষার্থীরা মিষ্টি বিতরণ করেন ও আনন্দ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুইটি অভিযোগে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাজা কমিয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ প্রায় দুই ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

আপডেট সময় : ০৭:১৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

রায় ঘোষণার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়ে হৈচৈ মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন শহীদ আবু সাঈদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা—সুমন ও রহমত আলী।

তারা বলেন,
“আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে পাঁচটি অপরাধে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, তার অন্যতম অভিযোগ ছিল বেরোবির শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা।
এ রায়ের মাধ্যমে সেই হত্যার নির্দেশদাতাদের বিচার হয়েছে—এজন্য শিক্ষার্থীরা স্বস্তি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনা ও কামালকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে।”

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন,
“জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বেরোবির শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার পরই আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ৫ আগস্ট আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকের রায় ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ পুরো দেশবাসী ন্যায়বিচার পেয়েছে। তবে রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে—এটি এখন শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি।”

তিনি আরও বলেন,
“এই রায়ের মধ্য দিয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”

রায় ঘোষণার পর রংপুর নগরীর বিভিন্ন স্থানেও শিক্ষার্থীরা মিষ্টি বিতরণ করেন ও আনন্দ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুইটি অভিযোগে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাজা কমিয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ প্রায় দুই ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করে।