Hi

০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষ থাকবে সুখ-শান্তিতে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্র ও জনগণের জীবনকে সুখ ও শান্তিময় করতে ইসলামী অনুশাসন প্রয়োগ অপরিহার্য। তিনি বলেন, রাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু হলে সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ ন্যায় ও ইনসাফের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। এই আইনের প্রয়োগে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা-৫ আসনের আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত মহিলা ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, একমাত্র ইসলামই সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। তাই আগামী নির্বাচনে সারাদেশে ইসলামপন্থী আলেম-ওলামা ও আল্লাহ ভীরু লোকদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে রাষ্ট্রে সকল মানুষের সুখ ও শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মুসলিম নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান উল্লেখ করে বলেন, ইতিহাসে হযরত সুমাইয়া (রা.) প্রথম মহিলা শহীদ ছিলেন এবং আম্মাজান আয়েশা (রা.) যুদ্ধের ময়দানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানেও নারীদের সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে যাতে ন্যায়, ইনসাফ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।

তিনি উপস্থিত মহিলাদের প্রতি আহ্বান জানান, প্রতিদিন গ্রুপ করে নারী সমাজের মধ্যে “দাঁড়িপাল্লা মার্কার” প্রচারণা চালাতে হবে। পুরুষরা পুরুষদের কাছে এবং নারী নারী সমাজে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সঠিক তথ্য পৌঁছে দেবে। এটি সম্পন্ন হলে সবাই মিলে ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে পারবে, ইনশাআল্লাহ।

জান্নাতের টিকেট বিক্রি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত কখনো মানুষের কাছে জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে না। মহান আল্লাহ কুরআন পাঠের মাধ্যমে মানুষের সঠিক পথে পরিচালনা করেন। বিরোধীরা কুরআন না বোঝার কারণে এ ধরনের অপপ্রচার চালান। তিনি তাদের এসব অপপ্রচারের থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এছাড়া তিনি বিভিন্ন স্থানে তালিম প্রোগ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধা প্রদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের ভাষা ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরকে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ করতো, বিএনপি আজ সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা মাহফিল ও তালিম প্রোগ্রামে বাধা দেয়, যা মূলত ইসলামকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এর আগে মিয়া গোলাম পরওয়ার শিরোমণির ডাকাতিয়া গ্রামে গণসংযোগ করেন। পরে রাতে সাজিয়াড়া শামসুল উলুম মাদ্রাসার ১০৫তম বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, যেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আছে সেখানে তাকে, যেখানে ইসলামী জোটের প্রার্থী আছে সেখানে তাকে ভোট দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা কুরআন বা শরীয়াহ মানে না তারা মদিনার ইসলামের অনুসারী দাবি করতে পারবে না। ইসলামী পথে কাজ করলে অনেকেই ‘অস্থিরতা ও ভুল তথ্য’ ছড়ায়, কিন্তু জনগণকে আল্লাহর আইন অনুযায়ী সচেতনভাবে ভোট দিতে হবে। ইসলামী জোটের লক্ষ্য কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করা এবং এ জন্য জনগণের সমর্থন অপরিহার্য।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষ থাকবে সুখ-শান্তিতে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রাষ্ট্র ও জনগণের জীবনকে সুখ ও শান্তিময় করতে ইসলামী অনুশাসন প্রয়োগ অপরিহার্য। তিনি বলেন, রাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু হলে সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ ন্যায় ও ইনসাফের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। এই আইনের প্রয়োগে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা-৫ আসনের আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত মহিলা ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, একমাত্র ইসলামই সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। তাই আগামী নির্বাচনে সারাদেশে ইসলামপন্থী আলেম-ওলামা ও আল্লাহ ভীরু লোকদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে রাষ্ট্রে সকল মানুষের সুখ ও শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মুসলিম নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান উল্লেখ করে বলেন, ইতিহাসে হযরত সুমাইয়া (রা.) প্রথম মহিলা শহীদ ছিলেন এবং আম্মাজান আয়েশা (রা.) যুদ্ধের ময়দানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানেও নারীদের সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে যাতে ন্যায়, ইনসাফ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।

তিনি উপস্থিত মহিলাদের প্রতি আহ্বান জানান, প্রতিদিন গ্রুপ করে নারী সমাজের মধ্যে “দাঁড়িপাল্লা মার্কার” প্রচারণা চালাতে হবে। পুরুষরা পুরুষদের কাছে এবং নারী নারী সমাজে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সঠিক তথ্য পৌঁছে দেবে। এটি সম্পন্ন হলে সবাই মিলে ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে পারবে, ইনশাআল্লাহ।

জান্নাতের টিকেট বিক্রি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত কখনো মানুষের কাছে জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে না। মহান আল্লাহ কুরআন পাঠের মাধ্যমে মানুষের সঠিক পথে পরিচালনা করেন। বিরোধীরা কুরআন না বোঝার কারণে এ ধরনের অপপ্রচার চালান। তিনি তাদের এসব অপপ্রচারের থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এছাড়া তিনি বিভিন্ন স্থানে তালিম প্রোগ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধা প্রদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের ভাষা ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরকে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ করতো, বিএনপি আজ সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা মাহফিল ও তালিম প্রোগ্রামে বাধা দেয়, যা মূলত ইসলামকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এর আগে মিয়া গোলাম পরওয়ার শিরোমণির ডাকাতিয়া গ্রামে গণসংযোগ করেন। পরে রাতে সাজিয়াড়া শামসুল উলুম মাদ্রাসার ১০৫তম বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, যেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আছে সেখানে তাকে, যেখানে ইসলামী জোটের প্রার্থী আছে সেখানে তাকে ভোট দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা কুরআন বা শরীয়াহ মানে না তারা মদিনার ইসলামের অনুসারী দাবি করতে পারবে না। ইসলামী পথে কাজ করলে অনেকেই ‘অস্থিরতা ও ভুল তথ্য’ ছড়ায়, কিন্তু জনগণকে আল্লাহর আইন অনুযায়ী সচেতনভাবে ভোট দিতে হবে। ইসলামী জোটের লক্ষ্য কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করা এবং এ জন্য জনগণের সমর্থন অপরিহার্য।