খুলনায় সোনালী ব্যাংক থেকে কোটি টাকার পাট আত্মসাতের ঘটনায় করা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ তিনজনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মেসার্স আকবর আলী সন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রবিউল হক বিশ্বাস ও চেয়ারম্যান মো. শফিউল হক বিশ্বাস, এবং সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখা, দৌলতপুরের সাবেক কর্মকর্তা (অগ্রিম) এস. এম. ইমদাদুল হক।
রায়ে রবিউল হক বিশ্বাস ও শফিউল হক বিশ্বাসকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ছয় কোটি ৫৮ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
অপরদিকে, ব্যাংক কর্মকর্তা এস. এম. ইমদাদুল হককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তবে অন্য দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মেসার্স আকবর আলী সন্স লিমিটেডের দুই পরিচালক পরস্পরের যোগসাজশে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড থেকে ছয় কোটি টাকার বেশি মূল্যের পাট আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহা. মোশাররফ হোসেন ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরের বছর ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। মামলার এক আসামি সোহেল হোসেন জোয়াদ্দারের মৃত্যুর কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন, যা খুলনা অঞ্চলের সাম্প্রতিক আলোচিত দুর্নীতি মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ প্রতিবেদক 












