দশম গ্রেডের দাবিতে আবারও রাজপথে নামছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে আগামী ৮ নভেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। ইতোমধ্যে তৃতীয় ধাপে সুপারিশ পাওয়া সহকারী শিক্ষকসহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে। একই দাবিতে প্রধান শিক্ষকরাও পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
এক মাসের ব্যবধানে প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ তৃতীয় দফা বড় ধরনের আন্দোলনে নামছেন। এর আগে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়িভাড়া, উৎসবভাতা ও মেডিক্যাল ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। বর্তমানে প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ২১ দিন ধরে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের অবস্থান চলছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা লাগাতার অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন, যা সরকারকে আবারও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে।
এই কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম-শাহিন) সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাসেম, একই সংগঠনের (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ, দশম গ্রেড বাস্তবায়নের সমন্বয়ক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও মোহাম্মদ আনোয়ার উল্যা।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেছেন, বহুবার আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও তাদের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ হয়নি। এ কারণেই তারা আবারও আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শুধুমাত্র আন্দোলনই এখন দাবি আদায়ের একমাত্র উপায়।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি জানান, ‘কোনও সাধারণ শিক্ষকই এই কর্মসূচির বিরোধিতা করছেন না। ঘরে বসে দাবি আদায় হবে—এটা ভুল ধারণা। যারা এখনও অপেক্ষায় আছেন, তাদের জাগ্রত হওয়া দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, নার্স, কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ সচিবসহ অনেক পদেই দশম গ্রেড রয়েছে। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১১তম গ্রেড পাননি।’
কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদের ভাষায়, ‘পে-কমিশন জানিয়েছে—গ্রেড পরিবর্তনের বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়, বরং এটি সার্ভিস কমিশনের বিষয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, অনশন, বৈঠক, আশ্বাস—সবকিছুর পরও যখন বাস্তবায়ন হয়নি, শিক্ষকরা বাধ্য হয়েই আবার আন্দোলনে ফিরেছেন।’
সমন্বয়ক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নিয়োগ যোগ্যতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড ন্যায্য। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট অজুহাতে বিষয়টি ঠেলে দিচ্ছে।’
আগামী ৮ নভেম্বর সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকল শিক্ষককে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মসূচি হবে অনির্দিষ্টকালব্যাপী।
এর আগেও শিক্ষকরা ১৭ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে আন্দোলনের ভেতরে বিভাজন দেখা দেওয়ায় কর্মসূচি স্থগিত হয়, যা সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে। সেই ক্ষোভ থেকেই এবার আরও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
দাবি সংক্ষেপে তিনটি—
১. সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী দশম গ্রেড বাস্তবায়ন
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা
শিক্ষকদের ভাষ্য—দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া এই আন্দোলন থামবে না, এবং এবার ঘরে ফেরা হবে সফলতা ছাড়া নয়।
মো. লিমন 














