Hi

০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাবি শিক্ষার্থীর গবেষণায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন নয়টি জিন ও তিনটি সম্ভাব্য ওষুধের সন্ধান

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন রাবি’র জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল লতিফ |সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের এক গবেষণায় ডেঙ্গু ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়টি নতুন জিন শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে—এমন তিনটি সম্ভাব্য ওষুধও চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল লতিফ (২০১৮–২০১৯ সেশন)। তার সহগবেষক হিসেবে ছিলেন আল নোমান ও ফয়সাল আহমেদ। গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান।

গবেষকরা জানান, ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে নয়টি নতুন জিন—সিডিকে১, বিআইআরসি৫, টিওয়াইএমএস, কেআইএফ২০এ, সিসিএনবি২, সিডিসি২০, এইউআরকেবি, টিকে১ এবং পিটিইএন শনাক্ত করা হয়েছে। এসব জিন ভাইরাস সংক্রমণ ও রোগের তীব্রতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়।

জৈবপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষক দল তিনটি সম্ভাব্য ওষুধ—এনট্রেকটিনিব, ইমাটিনিব এবং কুয়েটিয়াপিন—চিহ্নিত করেছেন, যা ভবিষ্যতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এসব ওষুধ সরাসরি ভাইরাসে নয়; বরং মানবদেহের ভেতরে ভাইরাসের সহযোগী জিনগুলোকে টার্গেট করে কাজ করে, যা ভাইরাস প্রতিরোধে এক নতুন কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, ডেঙ্গু সংক্রমণের ফলে শরীরে কিছু মাইক্রো আরএনএর পরিবর্তন ঘটে, যা ভাইরাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে এমআইআর-১০৩এ-৩পি নামের একটি মাইক্রো আরএনএ ডেঙ্গু প্রতিরোধে আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে।

গবেষণার প্রধান আব্দুল লতিফ বর্তমানে অনলাইন গবেষণা শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘স্টেটএক্স’-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “আমাদের গবেষণা ডেঙ্গু সংক্রমণের পেছনে জিনগত রহস্য উন্মোচন করেছে এবং হোস্ট-নির্ভর চিকিৎসা উদ্ভাবনের নতুন দ্বার খুলেছে। ভবিষ্যতে এই তথ্য ব্যবহার করে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এই গবেষণার মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাসের নতুন জিন ও সম্ভাব্য ওষুধ চিহ্নিত হওয়ায় ভবিষ্যতের চিকিৎসা কৌশল নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

গবেষণাটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য জার্নাল পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে কয়েক শ মানুষ প্রাণ হারান। গবেষকরা আশা করছেন, এই নতুন আবিষ্কার দেশের ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিকে আরও বৈজ্ঞানিকভাবে শক্তিশালী করবে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

রাবি শিক্ষার্থীর গবেষণায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন নয়টি জিন ও তিনটি সম্ভাব্য ওষুধের সন্ধান

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের এক গবেষণায় ডেঙ্গু ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়টি নতুন জিন শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে—এমন তিনটি সম্ভাব্য ওষুধও চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল লতিফ (২০১৮–২০১৯ সেশন)। তার সহগবেষক হিসেবে ছিলেন আল নোমান ও ফয়সাল আহমেদ। গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান।

গবেষকরা জানান, ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে নয়টি নতুন জিন—সিডিকে১, বিআইআরসি৫, টিওয়াইএমএস, কেআইএফ২০এ, সিসিএনবি২, সিডিসি২০, এইউআরকেবি, টিকে১ এবং পিটিইএন শনাক্ত করা হয়েছে। এসব জিন ভাইরাস সংক্রমণ ও রোগের তীব্রতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়।

জৈবপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষক দল তিনটি সম্ভাব্য ওষুধ—এনট্রেকটিনিব, ইমাটিনিব এবং কুয়েটিয়াপিন—চিহ্নিত করেছেন, যা ভবিষ্যতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এসব ওষুধ সরাসরি ভাইরাসে নয়; বরং মানবদেহের ভেতরে ভাইরাসের সহযোগী জিনগুলোকে টার্গেট করে কাজ করে, যা ভাইরাস প্রতিরোধে এক নতুন কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, ডেঙ্গু সংক্রমণের ফলে শরীরে কিছু মাইক্রো আরএনএর পরিবর্তন ঘটে, যা ভাইরাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে এমআইআর-১০৩এ-৩পি নামের একটি মাইক্রো আরএনএ ডেঙ্গু প্রতিরোধে আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে।

গবেষণার প্রধান আব্দুল লতিফ বর্তমানে অনলাইন গবেষণা শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘স্টেটএক্স’-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “আমাদের গবেষণা ডেঙ্গু সংক্রমণের পেছনে জিনগত রহস্য উন্মোচন করেছে এবং হোস্ট-নির্ভর চিকিৎসা উদ্ভাবনের নতুন দ্বার খুলেছে। ভবিষ্যতে এই তথ্য ব্যবহার করে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এই গবেষণার মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাসের নতুন জিন ও সম্ভাব্য ওষুধ চিহ্নিত হওয়ায় ভবিষ্যতের চিকিৎসা কৌশল নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

গবেষণাটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য জার্নাল পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে কয়েক শ মানুষ প্রাণ হারান। গবেষকরা আশা করছেন, এই নতুন আবিষ্কার দেশের ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিকে আরও বৈজ্ঞানিকভাবে শক্তিশালী করবে।