Hi

০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে নারী চিকিৎসকের আত্মহত্যা: হাতের তালুতে লেখা নোটে পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণ অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অভিযুক্ত গোপাল বাদনেকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে এক নারী চিকিৎসক নিজের হাতের তালুতে আত্মহত্যার নোট লিখে জীবন শেষ করেছেন। সেই নোটে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারবার ধর্ষণ এবং দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সাতারা জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এনডিটিভি জানিয়েছে, চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মৃত চিকিৎসকের বাম হাতের তালুতে লেখা ছিল, ফালতান থানার সাব–ইন্সপেক্টর গোপাল বাদনে তাকে পাঁচ মাস ধরে নির্যাতন করেছেন এবং একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। পাশাপাশি, আরেক কর্মকর্তা প্রশান্ত ব্যাংকারের বিরুদ্ধেও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি।

ওই চিকিৎসক ফালতান উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে, চলতি বছরের ১৯ জুন তিনি ফালতান উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তা (ডিএসপি)-এর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে, সাব–ইন্সপেক্টর বাদনে, ডিভিশনাল ইন্সপেক্টর পাটিল ও সহকারী ইন্সপেক্টর লাডপুত্র তাকে হয়রানি করছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, “আমি প্রচণ্ড মানসিক চাপে আছি, দয়া করে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন।”

চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের নির্দেশে অভিযুক্ত গোপাল বাদনেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার মহারাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করে জানায়, “যখন রক্ষকই ভক্ষক হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” রাজ্য কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ার বলেন, “ভুক্তভোগী আগেই অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু সরকার ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার পুলিশকে রক্ষা করছে বলেই এমন অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “শুধু তদন্ত নয়, অভিযুক্তদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে, আর যারা অভিযোগ উপেক্ষা করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অন্যদিকে, সরকারি জোটের শরিক বিজেপি জানিয়েছে, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। দলের রাজ্য নারী শাখার সভাপতি চিত্রা ওয়াঘ বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা। সাতারার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে, এফআইআর দায়েরের কাজ চলছে। একজন অভিযুক্ত রাজ্যের বাইরে আছেন, তাকে গ্রেপ্তারে টিম গঠন করা হয়েছে।”

তিনি নারীদের উদ্দেশে বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে ১১২ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চান।”

জোটের অপর শরিক এনসিপির নেতা আনন্দ পরাঞ্জাপে জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে টিম পাঠানো হয়েছে। “নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি বলেন।

এদিকে, মহারাষ্ট্র রাজ্য নারী কমিশন নিজ উদ্যোগে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। কমিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সাতারার পুলিশ সুপারকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, চিকিৎসক আগেই অভিযোগ করার পরও কেন কোনো সহায়তা পাননি, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। যারা দায়িত্বে থেকেও পদক্ষেপ নেননি, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে নারী চিকিৎসকের আত্মহত্যা: হাতের তালুতে লেখা নোটে পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণ অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে এক নারী চিকিৎসক নিজের হাতের তালুতে আত্মহত্যার নোট লিখে জীবন শেষ করেছেন। সেই নোটে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারবার ধর্ষণ এবং দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সাতারা জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এনডিটিভি জানিয়েছে, চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মৃত চিকিৎসকের বাম হাতের তালুতে লেখা ছিল, ফালতান থানার সাব–ইন্সপেক্টর গোপাল বাদনে তাকে পাঁচ মাস ধরে নির্যাতন করেছেন এবং একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। পাশাপাশি, আরেক কর্মকর্তা প্রশান্ত ব্যাংকারের বিরুদ্ধেও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি।

ওই চিকিৎসক ফালতান উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে, চলতি বছরের ১৯ জুন তিনি ফালতান উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তা (ডিএসপি)-এর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে, সাব–ইন্সপেক্টর বাদনে, ডিভিশনাল ইন্সপেক্টর পাটিল ও সহকারী ইন্সপেক্টর লাডপুত্র তাকে হয়রানি করছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, “আমি প্রচণ্ড মানসিক চাপে আছি, দয়া করে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন।”

চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের নির্দেশে অভিযুক্ত গোপাল বাদনেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার মহারাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করে জানায়, “যখন রক্ষকই ভক্ষক হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” রাজ্য কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ার বলেন, “ভুক্তভোগী আগেই অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু সরকার ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার পুলিশকে রক্ষা করছে বলেই এমন অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “শুধু তদন্ত নয়, অভিযুক্তদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে, আর যারা অভিযোগ উপেক্ষা করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অন্যদিকে, সরকারি জোটের শরিক বিজেপি জানিয়েছে, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। দলের রাজ্য নারী শাখার সভাপতি চিত্রা ওয়াঘ বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা। সাতারার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে, এফআইআর দায়েরের কাজ চলছে। একজন অভিযুক্ত রাজ্যের বাইরে আছেন, তাকে গ্রেপ্তারে টিম গঠন করা হয়েছে।”

তিনি নারীদের উদ্দেশে বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে ১১২ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চান।”

জোটের অপর শরিক এনসিপির নেতা আনন্দ পরাঞ্জাপে জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে টিম পাঠানো হয়েছে। “নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি বলেন।

এদিকে, মহারাষ্ট্র রাজ্য নারী কমিশন নিজ উদ্যোগে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। কমিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সাতারার পুলিশ সুপারকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, চিকিৎসক আগেই অভিযোগ করার পরও কেন কোনো সহায়তা পাননি, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। যারা দায়িত্বে থেকেও পদক্ষেপ নেননি, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।