বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যা মামলা সহ মোট পাঁচটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আইভীর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে আদালত এই আদেশ দেন। আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জের আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম। আহত অবস্থায় তাকে শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
ওই ঘটনার পর ২৩ সেপ্টেম্বর নিহত মিনারুলের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩০০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভী ছিলেন এজাহারভুক্ত ১২ নম্বর আসামি। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৯ মে সাবেক মেয়র আইভীকে শহরের পশ্চিম দেওভোগে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই বছরের ২৭ মে মিনারুল হত্যা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের মে মাসে আদালত আইভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন জানান। আদালত সে সময় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছিলেন। আজ সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে জামিন মঞ্জুর করেন।
এই রায়ের ফলে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস কারাভোগের পর সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তির পথ উন্মুক্ত হলো। তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিন আদেশ কার্যকর হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
মো. লিমন 












