ঢাকার একটি আদালত অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়া শেখ হাসিনা ও ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করেছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিন মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. এনামুল হক বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখযোগ্য, এই মামলার ২৮৬ আসামির মধ্যে ২৫৮ জন বর্তমানে পলাতক। গত ১৪ অক্টোবর আদালত তাদের হাজির হওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। এরপর ২৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন, মো. ইব্রাহীম খলিল বিপুল, মো. আব্দুস সবুর, মোছা. ছানোয়ারা খাতুন, মেহেদী হাসান আকাশ, এ কে এম আকতারুজ্জামান, কে এম রাশেদ, সুশান্ত ভৌমিক, নিজাম বারী, জাহাঙ্গীর আলম, শেখ আনিচুজ্জামান আনিচ, মো. আকরামুল আলম, মোছা. মেরিনা খাতুন মেরি, রফিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ঈশান ও জনি চন্দ্র সূত্রধরসহ অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত জুম মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করে পলাতক শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসানোর শপথ গ্রহণ করেন। ওই সভায় দেশ-বিদেশের ৫৭৭ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সভায় সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ ঘোষণা ও ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়, যা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ডের উপাদান বহন করে।
পরবর্তীতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডি ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নিয়োজিত ছিলেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. এনামুল হক। ১৪ আগস্ট তদন্ত শেষে তিনি শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং গত ১১ সেপ্টেম্বর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।
শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, জয় বাংলা ব্রিগেডের সদস্য কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা সাবিনা ইয়াসমিন, আজিদা পারভীন পাখি, শাহীন, অ্যাডভোকেট এএফএম দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক এমপি পংকজ নাখ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজান।
এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনলাইন সভায় অংশগ্রহণ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের প্রমাণ ভবিষ্যতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।
ডেস্ক রিপোর্ট 












