Hi

০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের আন্দোলন: এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, ন্যায্যতারও দাবি

  • মো. লিমন
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬২ জন দেখেছে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নয় দিনব্যাপী আন্দোলন কেবল অর্থনৈতিক দাবি নয়, এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বৈষম্য ও অবহেলার প্রতিচ্ছবি। কালো পতাকা মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, শহীদ মিনার ও সচিবালয়ের পথে লংমার্চ, ভুখা মিছিল, অনশন—সবকিছুই দেখাচ্ছে যে শিক্ষকরা কেবল নিজেদের প্রাপ্যই চান না, তাঁরা শিক্ষার মান রক্ষার জন্যও রাস্তায় নেমেছেন।

তাঁদের দাবি—মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা। সরকারের প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া (ন্যূনতম দুই হাজার টাকা) তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের যুক্তি, এই দাবি ন্যায্য এবং তা অবহেলার নয়, স্বীকৃতির দাবি।

দেশের শিক্ষকরা বহু বছর ধরে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে বৈষম্যের শিকার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যখন গাড়ি, বাড়ি ও অতিরিক্ত ভাতা পান, তখন শিক্ষকরা সামান্য মানবিক অধিকার অর্জনের জন্য রাস্তায় নামেন। এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়; বরং শিক্ষার মর্যাদা ও রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণতার প্রশ্ন।

এই অচলাবস্থা শুধু শিক্ষকদেরই নয়, শিক্ষার্থীদের জীবনেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হচ্ছে, পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদের দাবিকে উপেক্ষা করা মানে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও দেশের শিক্ষার মানকেও অবহেলা করা।

সরকারের উচিত দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান বের করা। সব দাবি পূরণ করা সম্ভব না হলেও, ন্যায্য অংশটি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানো জরুরি। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিকতা ফিরবে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা পুনরায় শুরু হবে এবং রাষ্ট্রের শিক্ষানীতির প্রতি আস্থা ফিরবে।

এ আন্দোলন কেবল শিক্ষক-কর্মচারীর নয়—এটি সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার সতর্ক সংকেত। শিক্ষক যদি ন্যায্যতা ও মর্যাদা না পান, তাহলে শিক্ষার গুণগত মান দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখনই পদক্ষেপ নেওয়া—শিক্ষকের দাবি মেনে শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা এবং ভবিষ্যতের পে কমিশনে ন্যায্য সমতা নিশ্চিত করা।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের আন্দোলন: এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, ন্যায্যতারও দাবি

আপডেট সময় : ০১:০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নয় দিনব্যাপী আন্দোলন কেবল অর্থনৈতিক দাবি নয়, এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বৈষম্য ও অবহেলার প্রতিচ্ছবি। কালো পতাকা মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, শহীদ মিনার ও সচিবালয়ের পথে লংমার্চ, ভুখা মিছিল, অনশন—সবকিছুই দেখাচ্ছে যে শিক্ষকরা কেবল নিজেদের প্রাপ্যই চান না, তাঁরা শিক্ষার মান রক্ষার জন্যও রাস্তায় নেমেছেন।

তাঁদের দাবি—মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা। সরকারের প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া (ন্যূনতম দুই হাজার টাকা) তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের যুক্তি, এই দাবি ন্যায্য এবং তা অবহেলার নয়, স্বীকৃতির দাবি।

দেশের শিক্ষকরা বহু বছর ধরে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে বৈষম্যের শিকার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যখন গাড়ি, বাড়ি ও অতিরিক্ত ভাতা পান, তখন শিক্ষকরা সামান্য মানবিক অধিকার অর্জনের জন্য রাস্তায় নামেন। এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়; বরং শিক্ষার মর্যাদা ও রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণতার প্রশ্ন।

এই অচলাবস্থা শুধু শিক্ষকদেরই নয়, শিক্ষার্থীদের জীবনেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হচ্ছে, পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদের দাবিকে উপেক্ষা করা মানে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও দেশের শিক্ষার মানকেও অবহেলা করা।

সরকারের উচিত দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান বের করা। সব দাবি পূরণ করা সম্ভব না হলেও, ন্যায্য অংশটি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানো জরুরি। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিকতা ফিরবে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা পুনরায় শুরু হবে এবং রাষ্ট্রের শিক্ষানীতির প্রতি আস্থা ফিরবে।

এ আন্দোলন কেবল শিক্ষক-কর্মচারীর নয়—এটি সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার সতর্ক সংকেত। শিক্ষক যদি ন্যায্যতা ও মর্যাদা না পান, তাহলে শিক্ষার গুণগত মান দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখনই পদক্ষেপ নেওয়া—শিক্ষকের দাবি মেনে শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা এবং ভবিষ্যতের পে কমিশনে ন্যায্য সমতা নিশ্চিত করা।