বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ (ন্যূনতম দুই হাজার টাকা) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে দুই ধাপে— প্রথম ধাপে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ, আর দ্বিতীয় ধাপে আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্তদের বাড়িভাড়া মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের মধ্যেই গত রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন করে ৫ শতাংশ (ন্যূনতম দুই হাজার টাকা) বাড়িভাড়ার প্রস্তাব দেয়। সেটিও প্রত্যাখ্যানের পর সরকার আজ (মঙ্গলবার) ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়।
বর্তমানে দেশের ৬ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত, যাঁদের মাসে মূল বেতন, ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।
কত টাকা পাবেন শিক্ষকরা
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,
-
যাঁর মূল বেতন ১২,৫০০ টাকা, তিনি নভেম্বর থেকে পাবেন ন্যূনতম ২,০০০ টাকা বাড়িভাড়া (শতাংশ হিসেবে ৯৩৭ টাকা হলেও সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম ২,০০০ টাকা প্রযোজ্য)।
-
১৬,০০০ টাকা মূল বেতনধারীরা নভেম্বর থেকে পাবেন ২,০০০ টাকা, এবং আগামী জুলাই থেকে পাবেন ২,৪০০ টাকা।
-
কলেজ পর্যায়ের নবম গ্রেডভুক্ত শিক্ষকরা (মূল বেতন ২২,০০০ টাকা) জুলাই থেকে পাবেন ৩,৩০০ টাকা বাড়িভাড়া।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, এই অতিরিক্ত সুবিধা পরবর্তী বেতন কাঠামোতে সমন্বয় করা হবে। সরকার ইতিমধ্যে নতুন বেতন কমিশন গঠন করেছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবে।
বছরে খরচ হবে প্রায় ২,৪৩৯ কোটি টাকা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দিতে সরকারকে বছরে প্রায় ২,৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী শহীদ মিনার থেকে ঘোষণা দেন, “আমরা এখন শ্রেণিকক্ষে ফিরছি।”
মো. লিমন 














