সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার আলোচিত কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি নাইম হোসেন (২১)–কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব–১২ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির উপ–অধিনায়ক মেজর আহসান হাবিব।
র্যাব জানায়, মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ভোররাতে র্যাব–১২ ও র্যাব–১১-এর যৌথ অভিযানে কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার জিয়ারকান্দি এলাকা থেকে নাইমকে আটক করা হয়। তিনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চর কামারখন্দ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।
মেজর আহসান হাবিব জানান, মামলার পর থেকেই নাইম পলাতক ছিল। প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কামারখন্দ থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।
ঘটনার পটভূমি
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী কামারখন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। গত রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কলম কেনার জন্য মাদ্রাসা থেকে বের হলে ৫–৬ জন যুবক তাকে জোর করে সিএনজিতে তুলে নেয়। পরে জামতৈল বাজারের ‘ডেরা ফাস্টফুড অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে’ নিয়ে গিয়ে নাইম হোসেন তাকে ধর্ষণ করে।
এ সময় কিশোরীর চিৎকার যেন বাইরে না যায়, সেজন্য সহযোগীরা রেস্টুরেন্টে সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে গান বাজায়। ধর্ষণের পর কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে সিরাজগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকে ফেলে পালিয়ে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মেয়েটি বাড়ি না ফিরলে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোনে জানান, মেয়েটি অচেতন অবস্থায় ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে মেয়েটিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে এম. মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মামলা ও গ্রেফতার
পরে সোমবার সন্ধ্যায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। এতে নাইম হোসেনকে প্রধান আসামি করে মোট সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার পরদিন রাতেই র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলো— জামতৈল গ্রামের আলমের ছেলে আকাশ (২১), নান্নু সরকারের ছেলে আতিক (২৩) এবং কর্ণসূতি গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামাণিকের ছেলে নাজমুল হক নয়ন (২৩)।
র্যাব জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রবিউল ইসলাম 












