Hi

০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইত্যাদি এবার কুড়িগ্রামে: ভাওয়াইয়া সংগীত, লোকসংস্কৃতি আর কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যে বিশেষ পর্ব

নব্বইয়ের দশক থেকেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। এবারও হানিফ সংকেত ও তাঁর ফাগুন অডিও ভিশনের দল বেছে নিয়েছেন এক অনন্য স্থান—দেশের উত্তর প্রান্তের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রাম। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী উলিপুর মহারানী স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ধারণ করা হয়েছে এবারের বিশেষ পর্ব।

আজ রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ইত্যাদির এই বিশেষ আয়োজন।

বরাবরের মতোই এবারের ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। অনুষ্ঠান ধারণের দিন সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে ভরে ওঠে পুরো কুড়িগ্রাম। দুপুরের পর থেকেই দর্শকদের ঢল নামে উলিপুর মহারানী স্বর্ণময়ী স্কুলের মাঠে। জেলা প্রশাসনের বিশেষ আমন্ত্রণে আসা অতিথিদের পাশাপাশি হাজারো মানুষ রাস্তা, ছাদ আর গাছের নিচে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন প্রিয় অনুষ্ঠানটির শুটিং। স্থানীয়রা জানান, কুড়িগ্রামে এত মানুষের একত্র সমাগম আগে দেখা যায়নি।

এবারের আয়োজনের মূল থিম ছিল উত্তরাঞ্চলের প্রাণের সংগীত ভাওয়াইয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেখা যাবে কুড়িগ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকথা নিয়ে একটি পরিচিতিমূলক গান, লিখেছেন মনিরুজ্জামান পলাশ। হানিফ সংকেতের সুর ও মেহেদীর সংগীতায়োজনে এতে কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব ও তানজিনা রুমা। গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন এস কে জাহিদ, অংশ নিয়েছেন স্থানীয় অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পী।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিবেশিত হবে ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দীনের জনপ্রিয় গান ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’, যা নতুনভাবে গেয়েছেন সালমা আক্তার ও পূর্ণচন্দ্র রায়। নতুন সংগীতায়োজনে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে পুরোনো সুরের ঐতিহ্য ও আবেগ।

দর্শক পর্বেও রয়েছে ভাওয়াইয়াকেন্দ্রিক বিশেষ আয়োজন। নির্বাচিত চারজন দর্শক অংশ নেন ভাওয়াইয়া সংগীত নিয়ে সাজানো প্রশ্নোত্তর ও পরিবেশনায়।

এছাড়া পর্বজুড়ে থাকছে কুড়িগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামী মানুষের জীবন নিয়ে প্রতিবেদন। দেখা যাবে মহারানী স্বর্ণময়ী, বীর প্রতীক তারামন বিবি, জননেতা মওলানা ভাসানী ও চিলমারী নদীবন্দর নিয়ে বিশেষ ফিচার। পাশাপাশি বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমি ও প্রতিষ্ঠাতা ভূপতি ভূষণ বর্মার অবদান নিয়েও থাকবে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন।

মানবিক প্রতিবেদনে দেখা যাবে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের জীবন-জীবিকা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে রিকতা আখতার বানুর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়।

বিদেশি প্রতিবেদন অংশে দর্শকরা ঘুরে আসবেন সিঙ্গাপুরের সেন্ট জনস আইল্যান্ড ও কুসু দ্বীপে, যেখানে প্রকৃতি ও আধুনিক স্থাপত্য মিশে গেছে এক স্বপ্নিল সৌন্দর্যে।

ইত্যাদির নিয়মিত চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও থাকছে সামাজিক অসংগতি ও সময়ের আলোচিত বিষয় নিয়ে রচিত নাট্যাংশ— ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’, ‘ভাইরাল ভাইরাস’, ‘বিজ্ঞের ভাব ধরা অজ্ঞ’, ‘উপহার উৎপাত’ ও ‘দায়বোধ বনাম আয়বোধ’।

অভিনয়ে রয়েছেন আবদুল আজিজ, সোলায়মান খোকা, আবদুল্লাহ রানা, সুভাশীষ ভৌমিক, জিল্লুর রহমান, মুকিত জাকারিয়া, আমিন আজাদ, শাহেদ আলী, আশরাফুল আলম সোহাগ, তারিক স্বপন, নিপু, আবু হেনা রনি, শাওন মজুমদার, সাবরিনা নিসা, জামিল হোসেন, রিমু রোজা খন্দকার, সাদিয়া তানজিন, সুজাত শিমুল, হানিফ পালোয়ান, নজরুল ইসলাম, সূচনা শিকদার, রাজীব সালেহীন, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

ইত্যাদি এবার কুড়িগ্রামে: ভাওয়াইয়া সংগীত, লোকসংস্কৃতি আর কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যে বিশেষ পর্ব

আপডেট সময় : ০১:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

নব্বইয়ের দশক থেকেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। এবারও হানিফ সংকেত ও তাঁর ফাগুন অডিও ভিশনের দল বেছে নিয়েছেন এক অনন্য স্থান—দেশের উত্তর প্রান্তের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রাম। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী উলিপুর মহারানী স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ধারণ করা হয়েছে এবারের বিশেষ পর্ব।

আজ রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ইত্যাদির এই বিশেষ আয়োজন।

বরাবরের মতোই এবারের ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। অনুষ্ঠান ধারণের দিন সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে ভরে ওঠে পুরো কুড়িগ্রাম। দুপুরের পর থেকেই দর্শকদের ঢল নামে উলিপুর মহারানী স্বর্ণময়ী স্কুলের মাঠে। জেলা প্রশাসনের বিশেষ আমন্ত্রণে আসা অতিথিদের পাশাপাশি হাজারো মানুষ রাস্তা, ছাদ আর গাছের নিচে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন প্রিয় অনুষ্ঠানটির শুটিং। স্থানীয়রা জানান, কুড়িগ্রামে এত মানুষের একত্র সমাগম আগে দেখা যায়নি।

এবারের আয়োজনের মূল থিম ছিল উত্তরাঞ্চলের প্রাণের সংগীত ভাওয়াইয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেখা যাবে কুড়িগ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকথা নিয়ে একটি পরিচিতিমূলক গান, লিখেছেন মনিরুজ্জামান পলাশ। হানিফ সংকেতের সুর ও মেহেদীর সংগীতায়োজনে এতে কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব ও তানজিনা রুমা। গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন এস কে জাহিদ, অংশ নিয়েছেন স্থানীয় অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পী।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিবেশিত হবে ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দীনের জনপ্রিয় গান ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’, যা নতুনভাবে গেয়েছেন সালমা আক্তার ও পূর্ণচন্দ্র রায়। নতুন সংগীতায়োজনে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে পুরোনো সুরের ঐতিহ্য ও আবেগ।

দর্শক পর্বেও রয়েছে ভাওয়াইয়াকেন্দ্রিক বিশেষ আয়োজন। নির্বাচিত চারজন দর্শক অংশ নেন ভাওয়াইয়া সংগীত নিয়ে সাজানো প্রশ্নোত্তর ও পরিবেশনায়।

এছাড়া পর্বজুড়ে থাকছে কুড়িগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামী মানুষের জীবন নিয়ে প্রতিবেদন। দেখা যাবে মহারানী স্বর্ণময়ী, বীর প্রতীক তারামন বিবি, জননেতা মওলানা ভাসানী ও চিলমারী নদীবন্দর নিয়ে বিশেষ ফিচার। পাশাপাশি বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমি ও প্রতিষ্ঠাতা ভূপতি ভূষণ বর্মার অবদান নিয়েও থাকবে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন।

মানবিক প্রতিবেদনে দেখা যাবে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের জীবন-জীবিকা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে রিকতা আখতার বানুর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়।

বিদেশি প্রতিবেদন অংশে দর্শকরা ঘুরে আসবেন সিঙ্গাপুরের সেন্ট জনস আইল্যান্ড ও কুসু দ্বীপে, যেখানে প্রকৃতি ও আধুনিক স্থাপত্য মিশে গেছে এক স্বপ্নিল সৌন্দর্যে।

ইত্যাদির নিয়মিত চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও থাকছে সামাজিক অসংগতি ও সময়ের আলোচিত বিষয় নিয়ে রচিত নাট্যাংশ— ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’, ‘ভাইরাল ভাইরাস’, ‘বিজ্ঞের ভাব ধরা অজ্ঞ’, ‘উপহার উৎপাত’ ও ‘দায়বোধ বনাম আয়বোধ’।

অভিনয়ে রয়েছেন আবদুল আজিজ, সোলায়মান খোকা, আবদুল্লাহ রানা, সুভাশীষ ভৌমিক, জিল্লুর রহমান, মুকিত জাকারিয়া, আমিন আজাদ, শাহেদ আলী, আশরাফুল আলম সোহাগ, তারিক স্বপন, নিপু, আবু হেনা রনি, শাওন মজুমদার, সাবরিনা নিসা, জামিল হোসেন, রিমু রোজা খন্দকার, সাদিয়া তানজিন, সুজাত শিমুল, হানিফ পালোয়ান, নজরুল ইসলাম, সূচনা শিকদার, রাজীব সালেহীন, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে।