Hi

০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নব্বই দশকের তারকা থেকে আজকের অনুপ্রেরণা: ঐশ্বরিয়া রাই

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৯ জন দেখেছে

সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই।

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ভারতীয় সিনেমার জগতে এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি শুধু তাঁর অনবদ্য রূপ ও সৌন্দর্যের জন্যই নয়, প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস এবং নৈপুণ্যের জন্যও সমাদৃত। আজ তিনি ৫২ বছর পেরিয়েছেন, কিন্তু বয়স যেন তার সৌন্দর্য ও দীপ্তিকে কমাতে পারেনি। এখনও তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি, সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাস সময়কে হার মানিয়েছে।

১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের মাধ্যমে রাতারাতি আলোচনায় আসেন ঐশ্বরিয়া। এর পরের কয়েক বছর মডেলিং ও বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে নিজের প্রতিভা দেখান। ১৯৯৭ সালে তামিল চলচ্চিত্র ‘ইরুভার’-এ অভিষেক ঘটে, এবং একই বছর বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ‘ওর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমার মাধ্যমে। ১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এ অভিনয় তাকে বলিউডের প্রথম সারিতে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর তিনি একে একে ‘তাল’, ‘দেবদাস’, ‘জোধা আকবর’, ‘গুরু’, ‘ধূম ২’, ‘রেইনকোট’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে পারদর্শী প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এর পারো চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকের মনে আজও বিশেষ ছাপ ফেলে।

দক্ষিণী এবং বলিউডের সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ঐশ্বরিয়া নিজের জায়গা করেছেন। ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য পিঙ্ক প্যান্থার ২’-এর মতো হলিউড প্রজেক্টে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের মুখ হয়ে উপস্থিত হয়েছেন, যা এখন এক ঐতিহ্যের প্রতীক।

সৌন্দর্যের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ঐশ্বরিয়া। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ঐশ্বরিয়া রাই ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০৭ সালে বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে বিবাহের পর তিনি বলিউডের সম্মানজনক পরিবারে যুক্ত হন এবং ২০১১ সালে তাদের কন্যা আরাধ্যা জন্ম নেন। সংসার, মাতৃত্ব ও ক্যারিয়ার— সবকিছুই তিনি দক্ষভাবে সামলাচ্ছেন।

মাতৃত্বের পর কিছুদিন বিরতি নিলেও ঐশ্বরিয়া ফিরে এসেছেন আরও উজ্জ্বল রূপে। ‘জজবা’, ‘সর্বজিত’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ এবং সাম্প্রতিক ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজে তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে মণিরত্নমের এই দক্ষিণী কাহিনিতে নন্দিনী চরিত্রে তার উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, তিনি এখনও অনবদ্য এবং দর্শককে মুগ্ধ করতে সক্ষম।

ঐশ্বরিয়া নিজে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সৌন্দর্য মানে নিখুঁত হওয়া নয়, বরং নিজের অসম্পূর্ণতাকেও ভালোবাসা। তার চোখে মুগ্ধতা, কথায় সংযম, আচরণে অনুগ্রহ— সব মিলিয়ে তিনি সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

নব্বই দশকের তারকা থেকে আজকের অনুপ্রেরণা: ঐশ্বরিয়া রাই

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ভারতীয় সিনেমার জগতে এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি শুধু তাঁর অনবদ্য রূপ ও সৌন্দর্যের জন্যই নয়, প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস এবং নৈপুণ্যের জন্যও সমাদৃত। আজ তিনি ৫২ বছর পেরিয়েছেন, কিন্তু বয়স যেন তার সৌন্দর্য ও দীপ্তিকে কমাতে পারেনি। এখনও তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি, সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাস সময়কে হার মানিয়েছে।

১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের মাধ্যমে রাতারাতি আলোচনায় আসেন ঐশ্বরিয়া। এর পরের কয়েক বছর মডেলিং ও বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে নিজের প্রতিভা দেখান। ১৯৯৭ সালে তামিল চলচ্চিত্র ‘ইরুভার’-এ অভিষেক ঘটে, এবং একই বছর বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ‘ওর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমার মাধ্যমে। ১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এ অভিনয় তাকে বলিউডের প্রথম সারিতে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর তিনি একে একে ‘তাল’, ‘দেবদাস’, ‘জোধা আকবর’, ‘গুরু’, ‘ধূম ২’, ‘রেইনকোট’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে পারদর্শী প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এর পারো চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকের মনে আজও বিশেষ ছাপ ফেলে।

দক্ষিণী এবং বলিউডের সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ঐশ্বরিয়া নিজের জায়গা করেছেন। ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য পিঙ্ক প্যান্থার ২’-এর মতো হলিউড প্রজেক্টে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের মুখ হয়ে উপস্থিত হয়েছেন, যা এখন এক ঐতিহ্যের প্রতীক।

সৌন্দর্যের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ঐশ্বরিয়া। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ঐশ্বরিয়া রাই ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০৭ সালে বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে বিবাহের পর তিনি বলিউডের সম্মানজনক পরিবারে যুক্ত হন এবং ২০১১ সালে তাদের কন্যা আরাধ্যা জন্ম নেন। সংসার, মাতৃত্ব ও ক্যারিয়ার— সবকিছুই তিনি দক্ষভাবে সামলাচ্ছেন।

মাতৃত্বের পর কিছুদিন বিরতি নিলেও ঐশ্বরিয়া ফিরে এসেছেন আরও উজ্জ্বল রূপে। ‘জজবা’, ‘সর্বজিত’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ এবং সাম্প্রতিক ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজে তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে মণিরত্নমের এই দক্ষিণী কাহিনিতে নন্দিনী চরিত্রে তার উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, তিনি এখনও অনবদ্য এবং দর্শককে মুগ্ধ করতে সক্ষম।

ঐশ্বরিয়া নিজে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সৌন্দর্য মানে নিখুঁত হওয়া নয়, বরং নিজের অসম্পূর্ণতাকেও ভালোবাসা। তার চোখে মুগ্ধতা, কথায় সংযম, আচরণে অনুগ্রহ— সব মিলিয়ে তিনি সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি।