Hi

০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমান শাহ চাননি অনুকরণ, আমির খানকে ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন

আমির খান ও সালমান শাহ্‌

ছোট পর্দায় কাজ শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। মডেলিং ও টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে চলচ্চিত্রে তাকে পরিচিতি এনে দেয় পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। মাত্র চার বছরে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করে অনন্তলোকে পাড়ি জমানো এই তারকা, মৃত্যুর ২৯ বছর পরও জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন না, বরং আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সালমান শাহর প্রথম চলচ্চিত্রটি ভারতের সুপারহিট ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর কপিরাইট থেকে তৈরি করা হয়েছিল। এই রিমেক নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাকে, তবে নিজের অবস্থান তিনি পরিষ্কার রেখেছিলেন।  সম্প্রতি তাঁর সে রকম একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ফেসবুকের চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে আপলোড করা হয়েছে। তাতে সালমান শাহকে বলতে শোনা যায়, কেন তিনি রিমেক সিনেমার নায়ক হয়েছিলেন।

সালমান শাহ বলেন, ‘একটা শিল্পীর সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা উচিত। প্রথম সিনেমায় কপিরাইট ফিল্মের হিরো হওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে আমি মনে করি, চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষমতা আমার ছিল।’

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড হিন্দি ‘সনম বেওয়াফা’, ‘দিল’ ও ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর মধ্যে একটির রিমেক করার জন্য পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের কাছে আসে। নতুন মুখ দিয়ে নায়ক-নায়িকা নির্বাচনের পরে সালমান শাহ নায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন এবং নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সালমান শাহ।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’–এর নায়ক–নায়িকা ছিলেন সালমান শাহ ও মৌসুমী। চলচ্চিত্রে রাজীব, আহমেদ শরীফ, আবুল হায়াত, খালেদা আক্তার কল্পনা, মিঠু, ডন, জাহানারা আহমেদ, অমল বোসসহ অনেকে অভিনয় করেছেন। ছবিটি ১৯৯৩ সালের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় এবং সুপারহিট ব্যবসা করে। দেশের মানুষের কাছে সালমান শাহ ও মৌসুমী রাতারাতি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

সালমান শাহ বলেন, ‘আমি যখন চরিত্রটি হাতে নিই, তখন মনের মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে, আমি আমার নিজস্ব স্টাইলে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারব। আমির খান যেভাবে অভিনয় করেছেন, সেটি দেখেছি, কিন্তু আমি কোনো অনুকরণ করতে চাইনি। দর্শক যদি মনে করেন, আমি ভালো করেছি, তাহলে আমি খুশি হব। আর যদি মনে করেন আরও ভালো হতে পারতাম, ভবিষ্যতে চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার নিজের অভিনয় দেখাতে চেয়েছি। এটি আমার নিজস্ব স্টাইল এবং কোনো ধরনের অনুকরণ নয়।’

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’–এর সালমান শাহ ও মৌসুমীর অভিনয় আজও দর্শকের মনে অম্লান এবং বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ স্থান অধিকার করেছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহ চাননি অনুকরণ, আমির খানকে ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন

আপডেট সময় : ১২:১০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

ছোট পর্দায় কাজ শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। মডেলিং ও টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে চলচ্চিত্রে তাকে পরিচিতি এনে দেয় পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। মাত্র চার বছরে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করে অনন্তলোকে পাড়ি জমানো এই তারকা, মৃত্যুর ২৯ বছর পরও জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন না, বরং আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সালমান শাহর প্রথম চলচ্চিত্রটি ভারতের সুপারহিট ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর কপিরাইট থেকে তৈরি করা হয়েছিল। এই রিমেক নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাকে, তবে নিজের অবস্থান তিনি পরিষ্কার রেখেছিলেন।  সম্প্রতি তাঁর সে রকম একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ফেসবুকের চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে আপলোড করা হয়েছে। তাতে সালমান শাহকে বলতে শোনা যায়, কেন তিনি রিমেক সিনেমার নায়ক হয়েছিলেন।

সালমান শাহ বলেন, ‘একটা শিল্পীর সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা উচিত। প্রথম সিনেমায় কপিরাইট ফিল্মের হিরো হওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে আমি মনে করি, চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষমতা আমার ছিল।’

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড হিন্দি ‘সনম বেওয়াফা’, ‘দিল’ ও ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর মধ্যে একটির রিমেক করার জন্য পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের কাছে আসে। নতুন মুখ দিয়ে নায়ক-নায়িকা নির্বাচনের পরে সালমান শাহ নায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন এবং নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সালমান শাহ।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’–এর নায়ক–নায়িকা ছিলেন সালমান শাহ ও মৌসুমী। চলচ্চিত্রে রাজীব, আহমেদ শরীফ, আবুল হায়াত, খালেদা আক্তার কল্পনা, মিঠু, ডন, জাহানারা আহমেদ, অমল বোসসহ অনেকে অভিনয় করেছেন। ছবিটি ১৯৯৩ সালের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় এবং সুপারহিট ব্যবসা করে। দেশের মানুষের কাছে সালমান শাহ ও মৌসুমী রাতারাতি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

সালমান শাহ বলেন, ‘আমি যখন চরিত্রটি হাতে নিই, তখন মনের মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে, আমি আমার নিজস্ব স্টাইলে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারব। আমির খান যেভাবে অভিনয় করেছেন, সেটি দেখেছি, কিন্তু আমি কোনো অনুকরণ করতে চাইনি। দর্শক যদি মনে করেন, আমি ভালো করেছি, তাহলে আমি খুশি হব। আর যদি মনে করেন আরও ভালো হতে পারতাম, ভবিষ্যতে চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার নিজের অভিনয় দেখাতে চেয়েছি। এটি আমার নিজস্ব স্টাইল এবং কোনো ধরনের অনুকরণ নয়।’

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’–এর সালমান শাহ ও মৌসুমীর অভিনয় আজও দর্শকের মনে অম্লান এবং বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ স্থান অধিকার করেছে।