Hi

০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমান শাহ হত্যা মামলা চূড়ান্ত হওয়া: ২৯ বছর পর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় মা নীলা

  • মো. লিমন
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১০৭ জন দেখেছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালত গত সোমবার ২৯ বছর পর অভিনেতা সালমান শাহের হত্যা মামলা করার নির্দেশ দিলে সন্তোষ ও শিথিলতার সঙ্গে মিশ্র একটি লঘু স্বস্তি পেলেন তার মা, নীলা চৌধুরী। লন্ডন থেকে কথা বলার সময় তিনি জানান, এতদিনের লড়াই যেন একরকম পূরণ হওয়া অনুভূত হচ্ছে। “দীর্ঘদিন পরে একটা ভরসার জায়গা তৈরি হলো। মামলার কার্যক্রম এত দ্রুত হবে — ভাবিনি,” তিনি বলেন। “আমার সমস্ত শরীর—মন খালি খালি মনে হচ্ছে। ছেলেকে মার্ডার করা হয়েছে, মামলা হচ্ছে—এই কথাটাই আমার কাছে বড় সান্ত্বনা।”

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সময়ে বহু দিন ধরে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হলেও, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার হত্যার রূপে বিচার চালানোর নির্দেশ পেলে নীলা বললেন, “আইনে একদিন প্রমাণ হবে এটা খুন—এই বিশ্বাসই আমার ছিল। আদালত যেভাবে ঘটনাটা উপস্থাপন করেছেন, সেখান থেকেই আমাকে মানসিকভাবে সান্ত্বনা পাওয়া গেছে।”

গত নয় বছরের অভিজ্ঞতা এবং প্রচারের সময় তিনি নানা অপপ্রচার, অভিযোগ ও হুমকির মুখেও পড়েন। “এই ২৯ বছর কিছু মানুষ আমাকে খারাপ বলেছে, আমার ছেলেকে খারাপ বলেছে। আমার জন্য ছেলে মারা গেছে—এমন কথাও শুনেছি। লালনপালন করে বড় করে আমি কি আমার ছেলেকে মেরেছি—এও বলতে এসেছে,” তিনি জানান। তিনি বলেন, এ সব অভিযোগ, অপপ্রচারের পেছনে মিডিয়ার একটি অংশ ও কিছু মহল কাজ করেছে, যা সত্যকে আড়াল করতে চেয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে।

সালমান সম্পর্কে ব্যক্তিগত স্মৃতি বলতে গিয়ে নীলা বলেন, “ও প্রায়ই আমার কাছে এসে বসত, পায়ের কাছে মাথা রাখত। কখনো মাথায় তেল দিত। সে ডিভোর্স নোটিশের কথাও বলেছিল—কিন্তু কোথায় গিয়ে ডিভোর্স দেওয়ার পর কেউ আত্মহত্যা করবে, সেটা কিভাবে হয়?” এসবই তার মনে অস্বস্তি সৃষ্টি করত—এই কথাগুলো তিনি তুলে ধরেন।

মামলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও নীলা এখনো নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত আছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়েও গ্রুপ বা ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে হুমকি পেয়েছেন। এজন্য তিনি ধীরে চলছেন এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছেন। “আমি এখন আমার ভাইয়ের লাইফ সিকিউরিটি চাইছি। যারা আগে আমাদের ঠেকিয়েছে, তাদের লোকেরা এখনো রয়েছে—তারা আবার কোনোভাবে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে,” তিনি বলেন।

নীর প্রত্যাশা স্পষ্ট: ন্যায়বিচার হবে এবং যারা এই অন্যায় ঘটিয়েছে তাদের বিচার হবে। “প্রত্যাশা আছে—ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার পাব। এত দিন যারা এত কথা বলেছে, আমাকে হুমকি দিয়েছে—তাদের বিচার হতেই হবে,” তিনি জানান এবং রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক, নইলে তারা পালিয়ে যাবে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহ হত্যা মামলা চূড়ান্ত হওয়া: ২৯ বছর পর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় মা নীলা

আপডেট সময় : ০৩:২১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালত গত সোমবার ২৯ বছর পর অভিনেতা সালমান শাহের হত্যা মামলা করার নির্দেশ দিলে সন্তোষ ও শিথিলতার সঙ্গে মিশ্র একটি লঘু স্বস্তি পেলেন তার মা, নীলা চৌধুরী। লন্ডন থেকে কথা বলার সময় তিনি জানান, এতদিনের লড়াই যেন একরকম পূরণ হওয়া অনুভূত হচ্ছে। “দীর্ঘদিন পরে একটা ভরসার জায়গা তৈরি হলো। মামলার কার্যক্রম এত দ্রুত হবে — ভাবিনি,” তিনি বলেন। “আমার সমস্ত শরীর—মন খালি খালি মনে হচ্ছে। ছেলেকে মার্ডার করা হয়েছে, মামলা হচ্ছে—এই কথাটাই আমার কাছে বড় সান্ত্বনা।”

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সময়ে বহু দিন ধরে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হলেও, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার হত্যার রূপে বিচার চালানোর নির্দেশ পেলে নীলা বললেন, “আইনে একদিন প্রমাণ হবে এটা খুন—এই বিশ্বাসই আমার ছিল। আদালত যেভাবে ঘটনাটা উপস্থাপন করেছেন, সেখান থেকেই আমাকে মানসিকভাবে সান্ত্বনা পাওয়া গেছে।”

গত নয় বছরের অভিজ্ঞতা এবং প্রচারের সময় তিনি নানা অপপ্রচার, অভিযোগ ও হুমকির মুখেও পড়েন। “এই ২৯ বছর কিছু মানুষ আমাকে খারাপ বলেছে, আমার ছেলেকে খারাপ বলেছে। আমার জন্য ছেলে মারা গেছে—এমন কথাও শুনেছি। লালনপালন করে বড় করে আমি কি আমার ছেলেকে মেরেছি—এও বলতে এসেছে,” তিনি জানান। তিনি বলেন, এ সব অভিযোগ, অপপ্রচারের পেছনে মিডিয়ার একটি অংশ ও কিছু মহল কাজ করেছে, যা সত্যকে আড়াল করতে চেয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে।

সালমান সম্পর্কে ব্যক্তিগত স্মৃতি বলতে গিয়ে নীলা বলেন, “ও প্রায়ই আমার কাছে এসে বসত, পায়ের কাছে মাথা রাখত। কখনো মাথায় তেল দিত। সে ডিভোর্স নোটিশের কথাও বলেছিল—কিন্তু কোথায় গিয়ে ডিভোর্স দেওয়ার পর কেউ আত্মহত্যা করবে, সেটা কিভাবে হয়?” এসবই তার মনে অস্বস্তি সৃষ্টি করত—এই কথাগুলো তিনি তুলে ধরেন।

মামলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও নীলা এখনো নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত আছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়েও গ্রুপ বা ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে হুমকি পেয়েছেন। এজন্য তিনি ধীরে চলছেন এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছেন। “আমি এখন আমার ভাইয়ের লাইফ সিকিউরিটি চাইছি। যারা আগে আমাদের ঠেকিয়েছে, তাদের লোকেরা এখনো রয়েছে—তারা আবার কোনোভাবে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে,” তিনি বলেন।

নীর প্রত্যাশা স্পষ্ট: ন্যায়বিচার হবে এবং যারা এই অন্যায় ঘটিয়েছে তাদের বিচার হবে। “প্রত্যাশা আছে—ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার পাব। এত দিন যারা এত কথা বলেছে, আমাকে হুমকি দিয়েছে—তাদের বিচার হতেই হবে,” তিনি জানান এবং রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক, নইলে তারা পালিয়ে যাবে।