Hi

১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা ড. মোহাম্মদ আলী তারেক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮১ জন দেখেছে

তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন ড. মোহাম্মদ আলী তারেক।

তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল উদাহরণ ড. মোহাম্মদ আলী তারেক। শিক্ষাজীবনের সূচনা বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে হলেও একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ইউনিভার্সিটি মালয়া–এর ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসে ফাইন্যান্স বিভাগের সিনিয়র লেকচারার হিসেবে কর্মরত।

ড. তারেকের শিক্ষাজীবন ও উচ্চশিক্ষা ব্যপক ও বৈচিত্র্যময়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্সে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করার পর, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিয়েল এস্টেট ফাইন্যান্সে এমফিল এবং জাপানের শিগা ইউনিভার্সিটি থেকে ফাইন্যান্সে পিএইচডি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ Monbukagakusho (MEXT) বৃত্তি পান।

ড. তারেক বর্তমানে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি জাপানের ইয়ামাগুচি ইউনিভার্সিটিতেও ভিজিটিং রিসার্চার হিসেবে যুক্ত আছেন। এর আগে তিনি প্রায় এক দশক ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া (ইউটিএম)–এর ম্যানেজমেন্ট অব টেকনোলজি (এমওটি) বিভাগে সিনিয়র লেকচারার ও এমওটি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর (এমটিআইএম) এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর (এমডিআরএম) প্রোগ্রাম তৈরি করেছেন।

২০১৬ সালে তিনি জাপানের ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় YU-MJIIT International Joint Intellectual Property Laboratory (IJIPL) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০২২ সাল পর্যন্ত এর প্রধান ছিলেন। এছাড়া তিনি MJIIT-তে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (DPPC)-এর উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। DPPC-তে থাকাকালীন তিনি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ড. তারেকের গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্র বিস্তৃত: ফিনটেক, ব্লকচেইন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, পেটেন্ট বিশ্লেষণ, টেকসই অর্থায়ন (ESG) এবং ট্রান্সডিসিপ্লিনারি গবেষণার সঙ্গে বায়োমেডিক্যাল গবেষণায়ও যুক্ত। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় তার আগ্রহের কারণে তিনি মালয়েশিয়ার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয় (MOSTI) এবং ন্যানো মালয়েশিয়ার (Nano Malaysia) কৌশলগত পরিকল্পনা অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

ড. তারেকের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নাল যেমন International Review of Economics and Finance, International Journal of Finance and Economics, Sustainable Futures, Humanomics এবং Qualitative Research in Financial Markets-এ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এলসেভিয়ার অ্যাডভাইজরি প্যানেল-এর সদস্য এবং Web of Science-এর রিভিউয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি ‘The Halal Industry in Asia: Perspectives from Brunei Darussalam, Malaysia, Japan, Indonesia and China’ বইয়ের সহ-সম্পাদক, যা ২০২৫ সালে Springer-এর অধীনে প্রকাশিত হয়েছে।

ড. তারেক টানা পাঁচ বছর (২০১৯–২০২৩) Universiti Teknologi Malaysia (UTM) এ ‘Anugerah Perkhidmatan Cemerlang’ (Best Service Award) অর্জন করেছেন। ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি মালায়ে ‘সিজিল পেরখিদমাতান চেমারলাং’ (বিশেষ সেবা পুরস্কার) পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি Emerald Literati Award ২০১৯, শ্রেষ্ঠ শিক্ষকতা পুরস্কার (UTM) এবং জাপানের ইশি মেমোরিয়াল সিকিউরিটিজ রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।

শুধু শিক্ষকই নন, ড. তারেক একজন SDG (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) প্র্যাকটিশনার ও সমাজকর্মী। তিনি Youth Hub Foundation, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশি এক্সপ্যাটস ইন মালয়েশিয়া-এর নির্বাহী সদস্য এবং অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (AISD)-এর অ্যাডভাইজরি প্যানেল মেম্বার।

মালয়েশিয়ার শিক্ষাবিশ্লেষক ড. লিম চেং হাও বলেন, ড. তারেক এমন এক উদাহরণ, যিনি একাডেমিক গবেষণাকে সমাজ ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর ক্লাসে কেবল বই নয়, বাস্তব অর্থনীতির প্রয়োগও শিখে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা বিশ্লেষক ড. তানভীর আহমেদ উল্লেখ করেন, তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের জন্য আলোকবর্তিকা।

ড. তারেক মালয়েশিয়ায় স্ত্রী ও দুই কন্যার সঙ্গে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী ইউনিভার্সিটি অব মালয়া–এর মেডিসিন অনুষদের সার্জারি বিভাগে মেডিকেল লেকচারার হিসেবে কর্মরত।

ড. মোহাম্মদ আলী তারেকের জীবন ও কর্মকাণ্ড তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাচ্ছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা ড. মোহাম্মদ আলী তারেক

আপডেট সময় : ১০:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল উদাহরণ ড. মোহাম্মদ আলী তারেক। শিক্ষাজীবনের সূচনা বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে হলেও একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ইউনিভার্সিটি মালয়া–এর ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসে ফাইন্যান্স বিভাগের সিনিয়র লেকচারার হিসেবে কর্মরত।

ড. তারেকের শিক্ষাজীবন ও উচ্চশিক্ষা ব্যপক ও বৈচিত্র্যময়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্সে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করার পর, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিয়েল এস্টেট ফাইন্যান্সে এমফিল এবং জাপানের শিগা ইউনিভার্সিটি থেকে ফাইন্যান্সে পিএইচডি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ Monbukagakusho (MEXT) বৃত্তি পান।

ড. তারেক বর্তমানে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি জাপানের ইয়ামাগুচি ইউনিভার্সিটিতেও ভিজিটিং রিসার্চার হিসেবে যুক্ত আছেন। এর আগে তিনি প্রায় এক দশক ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া (ইউটিএম)–এর ম্যানেজমেন্ট অব টেকনোলজি (এমওটি) বিভাগে সিনিয়র লেকচারার ও এমওটি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর (এমটিআইএম) এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর (এমডিআরএম) প্রোগ্রাম তৈরি করেছেন।

২০১৬ সালে তিনি জাপানের ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় YU-MJIIT International Joint Intellectual Property Laboratory (IJIPL) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০২২ সাল পর্যন্ত এর প্রধান ছিলেন। এছাড়া তিনি MJIIT-তে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (DPPC)-এর উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। DPPC-তে থাকাকালীন তিনি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ড. তারেকের গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্র বিস্তৃত: ফিনটেক, ব্লকচেইন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, পেটেন্ট বিশ্লেষণ, টেকসই অর্থায়ন (ESG) এবং ট্রান্সডিসিপ্লিনারি গবেষণার সঙ্গে বায়োমেডিক্যাল গবেষণায়ও যুক্ত। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় তার আগ্রহের কারণে তিনি মালয়েশিয়ার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয় (MOSTI) এবং ন্যানো মালয়েশিয়ার (Nano Malaysia) কৌশলগত পরিকল্পনা অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

ড. তারেকের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নাল যেমন International Review of Economics and Finance, International Journal of Finance and Economics, Sustainable Futures, Humanomics এবং Qualitative Research in Financial Markets-এ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এলসেভিয়ার অ্যাডভাইজরি প্যানেল-এর সদস্য এবং Web of Science-এর রিভিউয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি ‘The Halal Industry in Asia: Perspectives from Brunei Darussalam, Malaysia, Japan, Indonesia and China’ বইয়ের সহ-সম্পাদক, যা ২০২৫ সালে Springer-এর অধীনে প্রকাশিত হয়েছে।

ড. তারেক টানা পাঁচ বছর (২০১৯–২০২৩) Universiti Teknologi Malaysia (UTM) এ ‘Anugerah Perkhidmatan Cemerlang’ (Best Service Award) অর্জন করেছেন। ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি মালায়ে ‘সিজিল পেরখিদমাতান চেমারলাং’ (বিশেষ সেবা পুরস্কার) পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি Emerald Literati Award ২০১৯, শ্রেষ্ঠ শিক্ষকতা পুরস্কার (UTM) এবং জাপানের ইশি মেমোরিয়াল সিকিউরিটিজ রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।

শুধু শিক্ষকই নন, ড. তারেক একজন SDG (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) প্র্যাকটিশনার ও সমাজকর্মী। তিনি Youth Hub Foundation, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশি এক্সপ্যাটস ইন মালয়েশিয়া-এর নির্বাহী সদস্য এবং অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (AISD)-এর অ্যাডভাইজরি প্যানেল মেম্বার।

মালয়েশিয়ার শিক্ষাবিশ্লেষক ড. লিম চেং হাও বলেন, ড. তারেক এমন এক উদাহরণ, যিনি একাডেমিক গবেষণাকে সমাজ ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর ক্লাসে কেবল বই নয়, বাস্তব অর্থনীতির প্রয়োগও শিখে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা বিশ্লেষক ড. তানভীর আহমেদ উল্লেখ করেন, তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের জন্য আলোকবর্তিকা।

ড. তারেক মালয়েশিয়ায় স্ত্রী ও দুই কন্যার সঙ্গে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী ইউনিভার্সিটি অব মালয়া–এর মেডিসিন অনুষদের সার্জারি বিভাগে মেডিকেল লেকচারার হিসেবে কর্মরত।

ড. মোহাম্মদ আলী তারেকের জীবন ও কর্মকাণ্ড তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাচ্ছে।