Hi

০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাহরাইনে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৩ জন দেখেছে

মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্পে আগতদের সঙ্গে বাহরাইনে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ারত। ছবি: সংগৃহীত

বাহরাইনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এবারের দিনটি হয়ে উঠেছিল বিশেষ এক আয়োজনের মাধ্যমে প্রাণবন্ত। নায়লা আল-নাশমি ইভেন্টস হল ভরে উঠেছিল নানা বয়সী প্রবাসীদের উপস্থিতিতে, যারা এক জায়গায় সব ধরনের কনস্যুলার সেবা এবং সচেতনতামূলক পরামর্শ পাওয়ার আশায় ভিড় করেছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্পে শুধু কাগজপত্র বা সেবা দেওয়াই ছিল না, বরং প্রবাসীদের বাস্তব জীবনের নানা সমস্যা, দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ এবং আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি দিকনির্দেশনা দেওয়ারও ব্যবস্থা ছিল।

ক্যাম্পে প্রবাসীরা পাসপোর্ট নবায়ন, ভিসা সংশোধন, জন্ম নিবন্ধন, আইনি সহায়তা, ওয়েজ আর্নার্স সদস্যপদ, শ্রমকল্যাণ সুবিধা এবং চিকিৎসা পরামর্শ—সবকিছুই এক জায়গা থেকে সহজে পেয়ে যান। এতে কর্মব্যস্ত জীবনে সময় বের করতে হিমশিম খাওয়া বাংলাদেশিরা স্বস্তির হাসি নিয়ে সেবা গ্রহণ করেন। ক্যাম্পে বাহরাইনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে ট্রাফিক ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা স্থানীয় ট্রাফিক আইন, জরিমানার নিয়ম, যান চলাচলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং রাস্তায় আচরণবিধি সম্পর্কে সবাইকে বিস্তারিত ধারণা দেন। তাদের উপস্থিতি ক্যাম্পটিকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি নিজে উপস্থিত থেকে সবার কথা শোনেন, সমস্যা বুঝে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন এবং যেসব বিষয় দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব—সেগুলো সেখানেই নিষ্পত্তি করতে শুরু করেন। প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূতের এই সরাসরি অংশগ্রহণে বেশ উৎসাহিত হন এবং অনেকেই জানান, দূতাবাসের এই উদ্যোগ তাদের দীর্ঘদিনের ঝামেলা কমিয়ে দিয়েছে।

সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রবাসী কর্মীরা জানতে পারেন বাহরাইনের সাধারণ আইন, শ্রমিক অধিকারের বিষয়, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের নিয়ম, ভিসার মেয়াদ ও পরিবর্তন সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং কীভাবে আইনি জটিলতা এড়ানো যায়—এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। অনেক বাংলাদেশি যারা গ্রুপভিত্তিক আবাসনে বা কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকেন, তারা আগে এসব নিয়ম জানতেন না। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে তারা নিজেদের নিরাপত্তা ও আইনগত অবস্থান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা পান।

রিফা, আলী এবং আশপাশের এলাকার বাংলাদেশিরা জানান, এ ধরনের মোবাইল সার্ভিস না থাকলে দূতাবাসে যেতে সময়, খরচ এবং ঝামেলা তিনটিই সামলাতে হতো। তাই এই উদ্যোগ তাদের কাছে আশীর্বাদের মতো। দূতাবাস জানায়, শুধু সেমিনার নয়, বরং নিয়মিতভাবে এই ধরনের মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে প্রবাসীদের কাছে সেবা আরও সহজে পৌঁছে যায়।

পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ, আন্তরিকতা এবং প্রবাসীদের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ। একদিনের এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনে বাস্তব স্বস্তি আনতে সক্ষম হয়েছে—এটাই ছিল ক্যাম্পে অংশ নেওয়া শত শত মানুষের অভিন্ন অভিমত।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্যটি সংরক্ষন করুন

যাচাইকারীর নাম

jatioaparadh aparadh

জনপ্রিয় সংবাদ

বাহরাইনে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প

আপডেট সময় : ০৩:০০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

বাহরাইনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এবারের দিনটি হয়ে উঠেছিল বিশেষ এক আয়োজনের মাধ্যমে প্রাণবন্ত। নায়লা আল-নাশমি ইভেন্টস হল ভরে উঠেছিল নানা বয়সী প্রবাসীদের উপস্থিতিতে, যারা এক জায়গায় সব ধরনের কনস্যুলার সেবা এবং সচেতনতামূলক পরামর্শ পাওয়ার আশায় ভিড় করেছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্পে শুধু কাগজপত্র বা সেবা দেওয়াই ছিল না, বরং প্রবাসীদের বাস্তব জীবনের নানা সমস্যা, দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ এবং আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি দিকনির্দেশনা দেওয়ারও ব্যবস্থা ছিল।

ক্যাম্পে প্রবাসীরা পাসপোর্ট নবায়ন, ভিসা সংশোধন, জন্ম নিবন্ধন, আইনি সহায়তা, ওয়েজ আর্নার্স সদস্যপদ, শ্রমকল্যাণ সুবিধা এবং চিকিৎসা পরামর্শ—সবকিছুই এক জায়গা থেকে সহজে পেয়ে যান। এতে কর্মব্যস্ত জীবনে সময় বের করতে হিমশিম খাওয়া বাংলাদেশিরা স্বস্তির হাসি নিয়ে সেবা গ্রহণ করেন। ক্যাম্পে বাহরাইনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে ট্রাফিক ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা স্থানীয় ট্রাফিক আইন, জরিমানার নিয়ম, যান চলাচলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং রাস্তায় আচরণবিধি সম্পর্কে সবাইকে বিস্তারিত ধারণা দেন। তাদের উপস্থিতি ক্যাম্পটিকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি নিজে উপস্থিত থেকে সবার কথা শোনেন, সমস্যা বুঝে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন এবং যেসব বিষয় দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব—সেগুলো সেখানেই নিষ্পত্তি করতে শুরু করেন। প্রবাসীরা রাষ্ট্রদূতের এই সরাসরি অংশগ্রহণে বেশ উৎসাহিত হন এবং অনেকেই জানান, দূতাবাসের এই উদ্যোগ তাদের দীর্ঘদিনের ঝামেলা কমিয়ে দিয়েছে।

সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রবাসী কর্মীরা জানতে পারেন বাহরাইনের সাধারণ আইন, শ্রমিক অধিকারের বিষয়, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের নিয়ম, ভিসার মেয়াদ ও পরিবর্তন সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং কীভাবে আইনি জটিলতা এড়ানো যায়—এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। অনেক বাংলাদেশি যারা গ্রুপভিত্তিক আবাসনে বা কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকেন, তারা আগে এসব নিয়ম জানতেন না। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে তারা নিজেদের নিরাপত্তা ও আইনগত অবস্থান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা পান।

রিফা, আলী এবং আশপাশের এলাকার বাংলাদেশিরা জানান, এ ধরনের মোবাইল সার্ভিস না থাকলে দূতাবাসে যেতে সময়, খরচ এবং ঝামেলা তিনটিই সামলাতে হতো। তাই এই উদ্যোগ তাদের কাছে আশীর্বাদের মতো। দূতাবাস জানায়, শুধু সেমিনার নয়, বরং নিয়মিতভাবে এই ধরনের মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে প্রবাসীদের কাছে সেবা আরও সহজে পৌঁছে যায়।

পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ, আন্তরিকতা এবং প্রবাসীদের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ। একদিনের এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনে বাস্তব স্বস্তি আনতে সক্ষম হয়েছে—এটাই ছিল ক্যাম্পে অংশ নেওয়া শত শত মানুষের অভিন্ন অভিমত।